হোম কোয়ারেন্টাইনে রচিত সাহিত্য প্রসঙ্গ
হোম কোয়ারেন্টাইনে রচিত সাহিত্য প্রসঙ্গঃ
১৬৪৬ সালে লন্ডনে গুড ওমনে ফিলিপ্স নামে এক মহিলা ব্যুবনিক প্লেগে মারা যান। পরের বছর ১৬৪৭ সালে এই প্লেগ মহামারী আকার ধারণ করল । প্লেগ শুরু হবার ১৮ মাসের মধ্যে শুধুমাত্র লন্ডনেই মারা গেল ১ লক্ষ লোক। তখন লন্ডন শহরে বাস করত ৩ লক্ষ মানুষ। ওই সময় বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের বয়স ২৩ বছর। নিউটন তখন ক্যামব্রীজের ছাত্র। তার শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম ধরা পড়ল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার নির্দেশ দিল। নিউটন চলে আসলো তার পারিবারিক মালিকাধীন খামারবাড়ি লিঙ্কনশায়ারে বিশাল বাড়িতে বিশাল অবসর, কিন্তু সময় নষ্ট করার মত সময় তার নেই। সেখানে রুমে দক্ষিণের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ে মেঝেতে । ঘরে ঢোকা সূর্যের আলো নিয়ে ভাবতে থাকেন,বাঁধা পেলে আলো বেঁকে যায় কিনা ? কিংবা আলোর প্রকৃত রঙটাই বা কি ?
বিজ্ঞানী নিউটন ১৬৫৫ সালের ২ জুলাই থেকে ১৬৬৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ২২ মাসে লেখে ফেললেন ২ টি গবেষণা গ্রন্থ । গৃহবন্ধী থাকা অবস্থাতেই মধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ে ভাবা শুরু করেন। এই সময়েই সেই আপেল পড়ার ঘটনা ঘটে। তার কাছে মনে হয় চাঁদ কেন মাটিতে আছড়ে পড়ে না ? কেন ঝুলে থাকে ? নিউটন তার বন্ধুকে লেখেন হোম কোয়ারেন্টাইনে হাতে অনেক সময় ছিলো তাই ভাবতে শুরু করি যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি সেগুলো নিয়ে। মজার বিষয় পূর্ণাঙ্গ মধ্যাকর্ষণ তত্ত্বটি দিয়েছিলেন আরো ২০ বছর পর।
উইলিয়াম শেকস্পীয়র তার কালজয়ী অনেক লেখা লেখেছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময়। ধারণা করা হয় তার লেখনির তিন ভাগের এক ভাগ তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় লেখেন। ইংলান্ডের বিখ্যাত পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ান শুধু ‘কিং লিয়ার’ এর কথাই বলেছে।
১৩০০ সাল থেকেই ব্যুবনিক প্লেগ মাঝে মাঝেই ইংলান্ডে তান্ডব চালাতো। ছোট প্রাণী থেকে আক্রান্ত ফ্লিইয়া নামক মাছির মাধ্যমে এই প্লেগ ছড়ায় মানুষের মাঝে। শেকস্পীয়রের জন্মের সময় প্লেগের প্রাদুর্ভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ১৫৬৩ থেকে ১৫৬৫ সালের মধ্যে মাত্র ২ বছরে মারা যায় ৮০ হাজার মানুষ। ওই অগ্নিগর্ভ সময়ই জন্ম হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক শেকস্পীয়রের ২৪শে এপ্রিল ১৫৬৪। প্লেগে মারা যায় শেকস্পীয়রের আপন সহোদর ২৭ বছর বয়সের এডমন্ড,মারা যায় তিন সহোদরা জোয়ানা, মার্গরেট ও অন্য বোন অ্যান । তখন অ্যানের বয়স ছিল ৭ বছর। তার ছিল দুই কন্যা সুজানা হল, জুডিথ কুইনি ছেলে হ্যামনেট ও স্ত্রী অ্যান হিতওয়ে। এদের নিয়ে ছিল শেকস্পীয়রের সাজানো সংসার। তবে শেকস্পীয়র বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন তার একমাত্র পুত্র সন্তান হ্যামনেট ১১ বছর বয়সে প্লেগ রোগে মারা যাওয়াতে। মনে করা হয় এই পুত্রের নাম অনুসারেই তিনি একটি নাটকের নামকরণ করেন ‘হ্যামলেট’। প্লেগে তার বন্ধু বান্ধবসহ অগণিত লোক মারা যায়। শেকস্পীয়র মারা যান ১৬১৬ সালের ২ এপ্রিল নিউমোনিয়া রোগে। তার মৃত্যুর পরে প্লেগ রোগে ১৬১৭ সালে মে মাসে মারা যায় তার ২ নাতিসহ পরিবারের আরো একজন। এই একই পরিবারের আটজন মারা যায় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ,এ থেকেই বুঝা যায় প্লেগের ভয়াবহতা কত ছিলো। শেকস্পীয়র খুব শীতকাতুরে ছিলেন আগুনের কাছে ঘুমাতেন । তাই অনেকে মনে করেন প্লেগ রোগ তাকে তাই স্পর্শ করতে পারেনি।
১৫৯৩,১৬০৩, ১৬০৮ এই তিন সময় সমস্ত থিয়েটারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। সে সময় কখনো ৬ মাস আবার কখনো আড়াই বছর থাকতে হত হোম কোয়ারেন্টাইনে। ইতালিয়ান লেখক বোক্কাচ্চ জিওভানি তার ‘দ্য দেকামেরন’ নামক গ্রন্থে মহামারী আক্রান্ত শহরের বাস্তবচিত্র এঁকেছেন, সেখানে নাগরিকরা দিশেহারা, পথে পথে শবযাত্রার মিছিল। কেউ কেউ দিশেহারা হয়ে নেশা করছে,কেউ চুরডাকাতি করছে কেউ বা হইহুল্লোড় করছে আবার কেউ বা শহর হতে পালিয়ে যেতে উৎকন্ঠিত। ‘দ্য দেকামেরন’ পড়ে শেকসপীয়র লেখেন চেম্বারলিন, দ্যা মার্চেন্ট অব ভেনিস, অল’স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল’। তারপরে শেকস্পীয়র পড়েন ড্যানিয়েল ডিফোর ‘এ জার্নাল অব দি প্লেগ ইয়ার’।
আবার ইংরেজি লেখক জেফ্ররি চসার তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য ক্যন্টারবারি টেলস’ও গৃহবন্ধী অবস্থায় লেখেছেন। বিখ্যাত ইংরেজি লেখিকা মেরি শেলী শ্বাসকষ্ট ও শরীরে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের যন্ত্র লাগিয়ে লিখেছিলেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্রাঙ্কেন্টাইন। যখন পোলিও রোগে দুনিয়া আচ্ছন্ন তখন লেখক সিলভিয়া প্লাথ লিখেছিলেন ‘দ্য বেল জার’। উইলিয়াম কেনেডি লেখেছিলেন ‘আয়রণউইড’। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে যখন ৭৫ শতাংশ লোক সিফিলিস(এক জাতীয় চর্মরোগ) নামক যৌন রোগে আক্রান্ত, সে সময় জেমস জয়েস লেখলেন ‘উইলিসিস’। এ সিফিলিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন- ফ্রান্সের রাজা অষ্টম চার্লস, ক্রিস্টোফার কলম্বাস, হার্নেন কার্তেজ, লিও তয়েস্তয়,নিৎসে ,বদলেয়ার, মোঁপাসা, জার্মান কবি হাইনরিক হাইনে, মুসোলিনী, হিটলার, লেলিন, বিখ্যাত ডাচ চিত্রকর র্যামব্রেন্ড। এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন বাঙালি লেখক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় তার আত্ম জীবনী ‘জীবন রহস্য’ থেকে জানা যায়। আর রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সিফিলিসে আক্রান্ত ছিলেন জানা যায় তসলিমা নাসরিনের আত্ম জীবনী থেকে। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করলে তার জাহাজের ক্যাপ্টেন হার্নেন কার্তেজসহ বহু নৌকর্মী শরীরে এ রোগ বহন করে ইউরোপে আনেন।
একবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেঙ্গুনে জাহাজ ভেড়ার সময় খালাসি চিৎকার করে বলে করনটিনে যান ইংরেজি সঠিক উচ্চারণ না করতে পারাতে এমনটা শোনা যায়। শরৎচন্দ্র সাত দিন নদীর পাড়ে কোয়ারেন্টাইনে নিজে রান্না করে খান। তারপরে এক পরিচিত এক ব্যারিস্টারের বাড়িতে ওঠে কেঁদে ফেলেন। রবীন্দ্রনাথ একবার কলকাতা ছেড়ে গঙ্গাতীরবর্তী বাগানে ১৮৭২ সালের ১৪ই মে থেকে ৩০জুন পর্যন্ত ঠাকুর পরিবার নিয়ে থাকেন ডেঙ্গু মশা থেকে বাঁচার জন্য।
নাট্যকার সফোক্লেসের নাটক ইডিপাস এ দেখা যায় ভয়াবহ প্লেগের চিত্র। এ নাটকে রাজা লাইয়ুসের সাথে ছেলে ইডিপাসের যুদ্ধ হয়। কেউ কাউকে চেনে না। বাবা মারা যায় মা ইয়োসাস্তকে ছেলে না জেনে বিয়ে করে। যখন জানতে পারে ইয়োসাস্ত তার মা তখন নিজের চোখ উপড়ে ফেলেন।
ফ্রান্সে যখন কলেরা মহামারীর রূপ ধারণ করেছে তখন আলবার ক্যামু লিখলেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য প্লেগ’ স্পেনে ইনকুজেশন ( খ্রিস্টানধর্ম বিরোধীদের দমন আইন) বিখ্যাত লেখক মিগুয়েন সার্ভেন্টিসকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দনকিহতে’লিখতে।
বিজ্ঞানী নিউটন ১৬৫৫ সালের ২ জুলাই থেকে ১৬৬৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ২২ মাসে লেখে ফেললেন ২ টি গবেষণা গ্রন্থ । গৃহবন্ধী থাকা অবস্থাতেই মধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ে ভাবা শুরু করেন। এই সময়েই সেই আপেল পড়ার ঘটনা ঘটে। তার কাছে মনে হয় চাঁদ কেন মাটিতে আছড়ে পড়ে না ? কেন ঝুলে থাকে ? নিউটন তার বন্ধুকে লেখেন হোম কোয়ারেন্টাইনে হাতে অনেক সময় ছিলো তাই ভাবতে শুরু করি যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি সেগুলো নিয়ে। মজার বিষয় পূর্ণাঙ্গ মধ্যাকর্ষণ তত্ত্বটি দিয়েছিলেন আরো ২০ বছর পর।
উইলিয়াম শেকস্পীয়র তার কালজয়ী অনেক লেখা লেখেছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময়। ধারণা করা হয় তার লেখনির তিন ভাগের এক ভাগ তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় লেখেন। ইংলান্ডের বিখ্যাত পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ান শুধু ‘কিং লিয়ার’ এর কথাই বলেছে।
১৩০০ সাল থেকেই ব্যুবনিক প্লেগ মাঝে মাঝেই ইংলান্ডে তান্ডব চালাতো। ছোট প্রাণী থেকে আক্রান্ত ফ্লিইয়া নামক মাছির মাধ্যমে এই প্লেগ ছড়ায় মানুষের মাঝে। শেকস্পীয়রের জন্মের সময় প্লেগের প্রাদুর্ভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ১৫৬৩ থেকে ১৫৬৫ সালের মধ্যে মাত্র ২ বছরে মারা যায় ৮০ হাজার মানুষ। ওই অগ্নিগর্ভ সময়ই জন্ম হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক শেকস্পীয়রের ২৪শে এপ্রিল ১৫৬৪। প্লেগে মারা যায় শেকস্পীয়রের আপন সহোদর ২৭ বছর বয়সের এডমন্ড,মারা যায় তিন সহোদরা জোয়ানা, মার্গরেট ও অন্য বোন অ্যান । তখন অ্যানের বয়স ছিল ৭ বছর। তার ছিল দুই কন্যা সুজানা হল, জুডিথ কুইনি ছেলে হ্যামনেট ও স্ত্রী অ্যান হিতওয়ে। এদের নিয়ে ছিল শেকস্পীয়রের সাজানো সংসার। তবে শেকস্পীয়র বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন তার একমাত্র পুত্র সন্তান হ্যামনেট ১১ বছর বয়সে প্লেগ রোগে মারা যাওয়াতে। মনে করা হয় এই পুত্রের নাম অনুসারেই তিনি একটি নাটকের নামকরণ করেন ‘হ্যামলেট’। প্লেগে তার বন্ধু বান্ধবসহ অগণিত লোক মারা যায়। শেকস্পীয়র মারা যান ১৬১৬ সালের ২ এপ্রিল নিউমোনিয়া রোগে। তার মৃত্যুর পরে প্লেগ রোগে ১৬১৭ সালে মে মাসে মারা যায় তার ২ নাতিসহ পরিবারের আরো একজন। এই একই পরিবারের আটজন মারা যায় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ,এ থেকেই বুঝা যায় প্লেগের ভয়াবহতা কত ছিলো। শেকস্পীয়র খুব শীতকাতুরে ছিলেন আগুনের কাছে ঘুমাতেন । তাই অনেকে মনে করেন প্লেগ রোগ তাকে তাই স্পর্শ করতে পারেনি।
১৫৯৩,১৬০৩, ১৬০৮ এই তিন সময় সমস্ত থিয়েটারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। সে সময় কখনো ৬ মাস আবার কখনো আড়াই বছর থাকতে হত হোম কোয়ারেন্টাইনে। ইতালিয়ান লেখক বোক্কাচ্চ জিওভানি তার ‘দ্য দেকামেরন’ নামক গ্রন্থে মহামারী আক্রান্ত শহরের বাস্তবচিত্র এঁকেছেন, সেখানে নাগরিকরা দিশেহারা, পথে পথে শবযাত্রার মিছিল। কেউ কেউ দিশেহারা হয়ে নেশা করছে,কেউ চুরডাকাতি করছে কেউ বা হইহুল্লোড় করছে আবার কেউ বা শহর হতে পালিয়ে যেতে উৎকন্ঠিত। ‘দ্য দেকামেরন’ পড়ে শেকসপীয়র লেখেন চেম্বারলিন, দ্যা মার্চেন্ট অব ভেনিস, অল’স ওয়েল দ্যাট এন্ডস ওয়েল’। তারপরে শেকস্পীয়র পড়েন ড্যানিয়েল ডিফোর ‘এ জার্নাল অব দি প্লেগ ইয়ার’।
আবার ইংরেজি লেখক জেফ্ররি চসার তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য ক্যন্টারবারি টেলস’ও গৃহবন্ধী অবস্থায় লেখেছেন। বিখ্যাত ইংরেজি লেখিকা মেরি শেলী শ্বাসকষ্ট ও শরীরে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের যন্ত্র লাগিয়ে লিখেছিলেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্রাঙ্কেন্টাইন। যখন পোলিও রোগে দুনিয়া আচ্ছন্ন তখন লেখক সিলভিয়া প্লাথ লিখেছিলেন ‘দ্য বেল জার’। উইলিয়াম কেনেডি লেখেছিলেন ‘আয়রণউইড’। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে যখন ৭৫ শতাংশ লোক সিফিলিস(এক জাতীয় চর্মরোগ) নামক যৌন রোগে আক্রান্ত, সে সময় জেমস জয়েস লেখলেন ‘উইলিসিস’। এ সিফিলিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন- ফ্রান্সের রাজা অষ্টম চার্লস, ক্রিস্টোফার কলম্বাস, হার্নেন কার্তেজ, লিও তয়েস্তয়,নিৎসে ,বদলেয়ার, মোঁপাসা, জার্মান কবি হাইনরিক হাইনে, মুসোলিনী, হিটলার, লেলিন, বিখ্যাত ডাচ চিত্রকর র্যামব্রেন্ড। এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন বাঙালি লেখক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় তার আত্ম জীবনী ‘জীবন রহস্য’ থেকে জানা যায়। আর রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সিফিলিসে আক্রান্ত ছিলেন জানা যায় তসলিমা নাসরিনের আত্ম জীবনী থেকে। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করলে তার জাহাজের ক্যাপ্টেন হার্নেন কার্তেজসহ বহু নৌকর্মী শরীরে এ রোগ বহন করে ইউরোপে আনেন।
একবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেঙ্গুনে জাহাজ ভেড়ার সময় খালাসি চিৎকার করে বলে করনটিনে যান ইংরেজি সঠিক উচ্চারণ না করতে পারাতে এমনটা শোনা যায়। শরৎচন্দ্র সাত দিন নদীর পাড়ে কোয়ারেন্টাইনে নিজে রান্না করে খান। তারপরে এক পরিচিত এক ব্যারিস্টারের বাড়িতে ওঠে কেঁদে ফেলেন। রবীন্দ্রনাথ একবার কলকাতা ছেড়ে গঙ্গাতীরবর্তী বাগানে ১৮৭২ সালের ১৪ই মে থেকে ৩০জুন পর্যন্ত ঠাকুর পরিবার নিয়ে থাকেন ডেঙ্গু মশা থেকে বাঁচার জন্য।
নাট্যকার সফোক্লেসের নাটক ইডিপাস এ দেখা যায় ভয়াবহ প্লেগের চিত্র। এ নাটকে রাজা লাইয়ুসের সাথে ছেলে ইডিপাসের যুদ্ধ হয়। কেউ কাউকে চেনে না। বাবা মারা যায় মা ইয়োসাস্তকে ছেলে না জেনে বিয়ে করে। যখন জানতে পারে ইয়োসাস্ত তার মা তখন নিজের চোখ উপড়ে ফেলেন।
ফ্রান্সে যখন কলেরা মহামারীর রূপ ধারণ করেছে তখন আলবার ক্যামু লিখলেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য প্লেগ’ স্পেনে ইনকুজেশন ( খ্রিস্টানধর্ম বিরোধীদের দমন আইন) বিখ্যাত লেখক মিগুয়েন সার্ভেন্টিসকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দনকিহতে’লিখতে।
এবার করোনার কথায় আসি। ডক্টর রবার্ট প্যারি ৩ শে মার্চ ২০২০ যমুনা টেলিভিশনের করোনা সম্পর্কে বলেন বহুকাল আগে থেকেই এই ভাইরাস পৃথিবীতে ছিলো। বাদুড়সহ অন্যান্য প্রাণিতে এখন ভারতীয় বিজ্ঞানীরাও বাদুরের দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন তবে তারা বলছেন এটি মানুষকে তীব্রভাবে আক্রমণ করার মত ক্ষমতায় নেই দ্বিতীয় কোন প্রাণীর দেহে যাবার পরে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। চীনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন সেই দ্বিতীয় বাহন হচ্ছে প্যাঙ্গোলিন। আর এই প্যাঙ্গোলিন থেকেই মানুষে ছড়িয়েছে করোনা।
একটি আশ্চর্য ঘটনা ইতালিতে বহু লোক মারা গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত একটা লোকও ফেরারা শহরে মারা যায়নি। এই ফেরারা শহর বরাবরই সংক্রামক রোগ ঠেকাতে পারদর্শী। এখন যে লকডাউন চলছে তা শত বছর আগেই ইতালির ফেরারা শহরের মানুষেরা করেছে। তারা পরিচয়পত্র দেখে শহরে প্রবেশ করাত। আক্রান্ত কোন এলাকা থেকে কেউ এসে শহরে ঢুকতে পারত না। আগে ইতালির লোক বিশ্বাস করত ভূমিকম্পে সৃষ্ট দূষিত পদার্থের কারণে প্লেগ রোগ হয়। ১৫৪৬ সালে চিকিৎসক গিরোশামো ফ্রেকাস্তরো বলেন,রোগের অনুজীব একজনের মাধ্যমে অন্য জনে ছড়িয়ে যায় এভাবেই প্লেগ ছড়ায়। এটা জানার পর ফেরারা শহরের মানুষ আরো বেশি সর্তক হয়ে যায়। গৃহপালিত পশুপাখিসহ সকল পশু রাস্তায় নামা বন্ধ করে দেয়। ছোঁয়াছে রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তির ব্যবহৃত জামাকাপড় পুড়িয়ে ফেলা হয়। বাড়ির অন্যদের জামা কাপড়ও পরিষ্কার করা হয়। প্রেদ্রো নামক গবেষক প্লেগের বিরুদ্ধে ভিনেগার ও মদ ব্যবহার করেছিলেন। ইতালির অন্য শহরে প্লেগ মহামারীর আকার ধারণ করলেও ফেরারা শহরে তেমন আঁচড় কাটতে পারেনি। প্রফেসর হ্যান্ডারসন ফেরারা শহরের রোগ প্রতিরোধের সফলতার পিছনে অলৌকিকতাকে নয় বরং স্যানিটেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন ও নিয়ম কানুন মানার ফলকেই সফলতার নিয়ামক বলে মনে করেন।
Comments
Post a Comment