Posts

Showing posts from January, 2021

হোম কোয়ারেন্টাইনে রচিত সাহিত্য প্রসঙ্গ

  হোম কোয়ারেন্টাইনে রচিত সাহিত্য প্রসঙ্গঃ ১৬৪৬ সালে লন্ডনে গুড ওমনে ফিলিপ্স নামে এক মহিলা ব্যুবনিক প্লেগে মারা যান। পরের বছর ১৬৪৭ সালে এই প্লেগ মহামারী আকার ধারণ করল । প্লেগ শুরু হবার ১৮ মাসের মধ্যে শুধুমাত্র লন্ডনেই মারা গেল ১ লক্ষ লোক। তখন লন্ডন শহরে বাস করত ৩ লক্ষ মানুষ। ওই সময় বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের বয়স ২৩ বছর। নিউটন তখন ক্যামব্রীজের ছাত্র। তার শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম ধরা পড়ল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার নির্দেশ দিল। নিউটন চলে আসলো তার পারিবারিক মালিকাধীন খামারবাড়ি লিঙ্কনশায়ারে বিশাল বাড়িতে বিশাল অবসর, কিন্তু সময় নষ্ট করার মত সময় তার নেই। সেখানে রুমে দক্ষিণের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ে মেঝেতে । ঘরে ঢোকা সূর্যের আলো নিয়ে ভাবতে থাকেন,বাঁধা পেলে আলো বেঁকে যায় কিনা ? কিংবা আলোর প্রকৃত রঙটাই বা কি ? বিজ্ঞানী নিউটন ১৬৫৫ সালের ২ জুলাই থেকে ১৬৬৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ২২ মাসে লেখে ফেললেন ২ টি গবেষণা গ্রন্থ । গৃহবন্ধী থাকা অবস্থাতেই মধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ে ভাবা শুরু করেন। এই সময়েই সেই আপেল পড়ার ঘটনা ঘটে। তার কাছে মনে হয় চাঁদ কেন মাটিতে আছড়ে পড়ে না ...

যাকাতের হিসাব নির্ধারণে সোনা-রুপা অল্পবিস্তর পর্যালোচনা

Image
 যাকাতের নিসাব নির্ধারণে অনেকেই নিয়তগত প্রবঞ্চনার আশ্রয় নেন। দুঃখজনক হলেও এটি হয়ে আসছে। দুদিন আগেও কোনো এক ভাইয়ের পোস্টে একজনের মন্তব্য ছিল এমন, “আপনি শুধু রুপা রুপা করেন কেন? নিসাব নির্ধারণে স্বর্ণকেও তো স্ট্যান্ডার্ড ধরা যায়। আমি যদি স্বর্ণকে মানদণ্ড ধরে নিসাব নির্ধারণ করি তাহলে সমস্যা কোথায়?" পুঁজিবাদী এই অর্থব্যবস্থায় রুপাকে পাশ কাটিয়ে  স্বর্ণকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে যাকাতের নিসাব নির্ধারণ করতে গেলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক সমস্যা তৈরি হবে। এটা বুঝতে হলে আমাদেরকে সোনা-রুপার একটি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে চোখ রাখা জরুরি। মিশরের ফিরাউনী যুগে সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ২.৫ঃ১। মেসোপটেমিয়ার হাম্বুরাবির আমলে সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ৬ঃ১। গ্রিক সাম্রাজ্যে সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ১২.৫ঃ১। রুমান সাম্রাজ্যে সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ১২.৫ঃ১। আল্লাহর ﷺ-এর যুগে কেন্দ্রীয় ভাবে সোনা-রুপার মান নির্ধারিত ছিল। তখন সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ৭ঃ১। অর্থাৎ সাত তোলা রুপার সমমান এক তোলা সোনা। রাসূল ﷺ-এর যুগে ৫২.৫ তোলা রুপার সমমান ছিল ৭.৫ তোলা সোনা। মধ্যযুগ পর্যন্ত সোনা-রুপার অনুপাত ছিল ১৫ঃ১। ১৭৯২ সালে জর্জ ওয়াশিংটন সোনা-রু...

সমকামিতার সাক্ষীঃ দ্যা ডেড সি এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

Image
   দ্যা ডেড সি এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ডেড সি বা মৃত সাগরকে সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি লেক। এর অবস্থান জর্ডান, ইজরাইল ও প্যালেস্টাইনের মাঝে। একে মৃত বলা হয় কারণ এর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ এত বেশি যে কোন জীব এখানে জন্মাতে পারে না। ডেড সির লবণাক্ততার পরিমাণ ৩৪% যা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে ৯ গুণ বেশি। এছাড়াও অন্যান্য খনিজ লবণের পরিমাণও মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বেশি। একারণে এই জলরাশিতে কোন মানুষ ডুবে যায়না, সাঁতার না জানলেও যে কেউ এখানে অবলীলায় ভেসে থাকতে পারবে। .. এই ডেড সি এককালে এমন ছিলনা। এখানে ছিল সদম ও গোমরাহ নামক দুটি শহর। এদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন আল্লাহর নাবী লুত(আঃ)। এই জাতির লোকেরাই সর্বপ্রথম সমকামিতা শুরু করে ও সমকামিতায় মারাত্বকভাবে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ আল কুরআনে এদের কুকর্মের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ বলেন, "...যখন লুত তার জাতিকে বলেছিল, তোমরা এমন এক অশ্লীল কাজ করছ যা সৃষ্টিকুলে এর আগে কেউ করেনি। তোমরা কামনা পূর্ণ করার জন্য জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাও, তোমরা এক সীমালংঘনকারী জাতি।"[সুরা আরাফ(৯)-৮০,৮১]। "তারা বলল, তুমি ভাল করেই জান মেয়েদের আমাদের প্রয়োজন নে...