সমকামিতার সাক্ষীঃ দ্যা ডেড সি এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
দ্যা ডেড সি এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
ডেড সি বা মৃত সাগরকে সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি লেক। এর অবস্থান জর্ডান, ইজরাইল ও প্যালেস্টাইনের মাঝে। একে মৃত বলা হয় কারণ এর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ এত বেশি যে কোন জীব এখানে জন্মাতে পারে না। ডেড সির লবণাক্ততার পরিমাণ ৩৪% যা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে ৯ গুণ বেশি। এছাড়াও অন্যান্য খনিজ লবণের পরিমাণও মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বেশি। একারণে এই জলরাশিতে কোন মানুষ ডুবে যায়না, সাঁতার না জানলেও যে কেউ এখানে অবলীলায় ভেসে থাকতে পারবে।
..
এই ডেড সি এককালে এমন ছিলনা। এখানে ছিল সদম ও গোমরাহ নামক দুটি শহর। এদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন আল্লাহর নাবী লুত(আঃ)। এই জাতির লোকেরাই সর্বপ্রথম সমকামিতা শুরু করে ও সমকামিতায় মারাত্বকভাবে লিপ্ত ছিল।
আল্লাহ আল কুরআনে এদের কুকর্মের কথা বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ বলেন, "...যখন লুত তার জাতিকে বলেছিল, তোমরা এমন এক অশ্লীল কাজ করছ যা সৃষ্টিকুলে এর আগে কেউ করেনি। তোমরা কামনা পূর্ণ করার জন্য জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাও, তোমরা এক সীমালংঘনকারী জাতি।"[সুরা আরাফ(৯)-৮০,৮১]।
"তারা বলল, তুমি ভাল করেই জান মেয়েদের আমাদের প্রয়োজন নেই। তুমি জান আমি সত্যিকার অর্থে কী চাই" [সুরা হুদ(১১)-৭৯]
এরপর আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছেন শিরক ও সমকামিতার অপরাধে কীভাবে তিনি ফেরেশতার মাধ্যমে এই জাতিকে ধ্বংস করেছেন। "অতঃপর যখন আমার আযাবের আদেশ এল তখন আমি সেই জনপদগুলো উল্টিয়ে দিলাম এবং তার উপর ক্রমাগত পাকা মাটির পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করলাম" [সুরা হুদ(১১)-৮২]। এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে সুরা হিজর, আম্বিয়া, শুয়ারা, নামল, আনকাবুত ইত্যাদি সহ মোট ১২ টি সুরায় এদের কথা উল্লেখ করেছেন।
...
আজ লুত (আঃ) এর জাতি নেই কিন্তু রয়ে গেছে তাদের মারাত্বক অপরাধটির চিহ্ন যা বিপুল জলরাশি হবার পরও অসীম শূন্যতায় পরিপূর্ণ। যেখানে মানুষ সাঁতার না জানলেও ডুবে যায়না।
...
সম্প্রতি বাংলাদেশে কিছু দেশীয় ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি সমকামিতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার লক্ষে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
আমাদের উচিৎ এদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া এবং এদের হেদায়েতের জন্য দুয়া করা। যাই হোক, বাংলাদেশে সমকামিতার জন্য ১০ বছর জেলের বিধান রয়েছে।
ভাল কথায় কাজ না হলে বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী ও আইসিটি আইনে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবী হিসেবে বিবেচ্য হবে।

Comments
Post a Comment